আশুলিয়ায় ‘জমি দখল করে হাসপাতাল,ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ভুমিদস্যুতা,জালিয়াতি ও বিচার প্রভাবিত করার অভিযোগ।
আশুলিয়া প্রতিনিধি :- সাভার আশুলিয়ার দিয়াখালী মৌজায় প্রকাশ্যে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ—বৈধ মালিকের জমি দখল করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতাল চালাচ্ছে একটি ট্রাস্ট। অভিযোগের তীর “মমতাজ স্মৃতি কল্যাণ পরিষদ” ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের দিকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “আইন, প্রশাসন আর ক্ষমতার ছত্রছায়ায় জমি দখলের এক অভিনব মডেল” গড়ে তোলা হয়েছে এখানে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উক্ত জমির বৈধ মালিক ছিলেন ফজলুল হক, যিনি রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, নামজারি এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে তার মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। এমনকি সরকার জমির একটি অংশ অধিগ্রহণ করে তাকে ক্ষতিপূরণও প্রদান করে—যা তার মালিকানার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই জমিতেই পরবর্তীতে “মমতাজ স্মৃতি কল্যাণ পরিষদ”-এর মালিক জামিল উদ্দিন পরিকল্পিতভাবে একটি মামলা দায়ের করে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখেন। আর সেই সুযোগে বিতর্কিত জমিতে নারী ও শিশু হাসপাতাল স্থাপন করে কার্যত দখল নিশ্চিত করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ জমি বিরোধ নয়—বরং একটি সুপরিকল্পিত দখল প্রক্রিয়া, যেখানে মামলা ব্যবহার করা হয়েছে “ঢাল” হিসেবে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ফজলুল হক আদালতে অবৈধ হাসপাতাল স্থাপনের বিরুদ্ধে লড়াই চালালে একটি মুচলেকায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, রায়ে তিনি জয়ী হলে জমি ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই প্রতিশ্রুতি এখন “কাগজে বন্দি”। বরং রায়কে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে রেখে বাস্তবে দখল অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে একই মামলা ঝুলিয়ে রেখে একটি কৃত্রিম আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়েছে—যা কার্যত বিচার প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এদিকে দীর্ঘ লড়াই শেষে ফজলুল হক তার অধিকার ফিরে না পেয়েই ২০২৩ সালের ৩ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। বর্তমানে তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভূমি ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,
আদালতের রায়প্রাপ্ত সম্পত্তি দখলে রাখা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ।
একই জমিতে একাধিক নামজারি জালিয়াতির শক্ত ইঙ্গিত।
বিচারিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে দখল ধরে রাখা “আইনের অপব্যবহার” এবং “প্রতারণার কৌশল” হতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—
বিতর্কিত জমিতে কীভাবে হাসপাতাল চালু রয়েছে?
এর বৈধ অনুমোদন কি আদৌ রয়েছে?
প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বছরের পর বছর এ ধরনের কার্যক্রম কীভাবে চলতে পারে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই দখল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন একজন বৈধ মালিকের পরিবার নিঃস্ব হয়েছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতকে ব্যবহার করা হচ্ছে “ঢাল” হিসেবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন
“তদন্ত আর কতদিন? ন্যায়বিচার কি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে?”
পরিবারটি ইতোমধ্যে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবহিত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এই ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন—এটি কি শুধুই জমি বিরোধ, নাকি প্রভাব ও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সংগঠিত একটি সুপরিকল্পিত ভুমিদস্যুতা?
