পুলিশের এএসআই বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হয়রানি, তার নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং ৩০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক :- পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হয়রানি, তার নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং ৩০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন সময়ে এএসআই বাবুল মিয়া তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে তার কাছে ৩০ লাখ টাক দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বাবুল মিয়ার স্ত্রীর দাবি, বাবুল মিয়াকে ১৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। এছাড়াও ১৮ লক্ষ টাকা নিয়ে মিরপুরে তার ফ্ল্যাটে থাকতে দেয়ার পর সেখান থেকে বর্তমানে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
বাবুল মিয়ার স্ত্রীর নাম লাভলী সুলতানা । তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বাসিন্দা। বিগত ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক তাদের বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খারাপ কাজ করার জন্য বাধ্য করত বলেও তিনি অভিযোগ করেন । স্বামী স্ত্রীর মধ্যে আন্তরিক কথাবার্তা বলার সময়ে ভিডিও কলে নগ্ন হতে আবদার করত। স্ত্রী সহজ সরল বিশ্বাসে সেই আবদার পূরণ করতে গেলে তিনি সেই সকল ভিডিও কলে নগ্ন অবস্থায় ছবি স্ক্রিনশট দিয়ে রাখতেন। এছাড়াও বাড়িতে বসেও তাকে বিছানায় শোয়াইয়া নগ্ন করে ভিডিও করতেন বলেও অভিযোগ করেন লাভলি সুলতানা।বাবুল মিয়ার স্ত্রী লাভলী সুলতানা আরো জানান বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা দেয়ার পরে পুনরায় আরও ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। এতে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারনে তিনি গত ২৬ আগস্ট তাকে তালাক প্রদান করেন।
এবং বিভিন্ন সময়ের তার মোবাইলে ধারণকৃত অশ্লীল কথাবার্তা, নগ্ন ছবি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার ভয় ভীতি হুমকি প্রদর্শন করে।পরবর্তীতে গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার চাহিদা মত টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে
ভুক্তভোগীর মেয়ের হোয়াটসঅ্যাপে এসব অর্ধনগ্ন নগ্ন এবং আপত্তিকর ভিডিও প্রেরণ করে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি দিয়ে পর্নো ছবি হিসেবে এগুলো প্রকাশ করে। শুধু তাই নয় এসব কিছু ওই নারীর আত্মীয়-স্বজনের কাছেও তিনি প্রেরণ করেন। এতে ভুক্তভুগীর মান সম্মান সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে চরম মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদয় হস্তক্ষে কামনা করেছেন ভুক্তভোগী লাভলী সুলতানা। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে এএসআই বাবুল মিয়ার বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।
