বটিয়াঘাটা সেটেলমেন্ট অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ: জোনাল অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার বটিয়াঘাটা সেটেলমেন্ট অফিসে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, দায়িত্বের অপব্যবহার, মামলা বাণিজ্য, মৌসুমী কর্মচারীদের কর্মহীন রাখা এবং দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এবার সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের তদারকি ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারী ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যোগদান করা ২৮ জন মৌসুমী আমিন দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর কোনো দায়িত্ব পাননি। অভিযোগ রয়েছে, মাথাভাঙ্গা, তেঁতুলতলা ও ঝলমলা মৌজার জরিপ কার্যক্রমের প্রস্তুতি থাকলেও তাদের মাঠ পর্যায়ে কাজে নিয়োজিত করা হয়নি। ফলে অনেক মৌসুমী কর্মচারী আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন, সার্ভেয়ার মোঃ গোলাম রসুল এবং চেইনম্যান মনিরুজ্জামান মনিরকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমি সংক্রান্ত মামলা, শুনানি, রেকর্ড সংশোধন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি চলছে।
এদিকে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর একাধিক ব্যক্তি ফোন করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। অভিযোগকারী সাংবাদিকের দাবি, দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মৌসুমী আমিনদের মধ্যে কে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং তাদের ওপরও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
এদিকে খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সাজিয়া আফরিনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। কিছু অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে তারা অসহযোগিতার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অফিসে একটি প্রভাবশালী চক্রের আধিপত্যের কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে দালাল নির্ভরতা ও অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ গোলাম রসুল, মনিরুজ্জামান মনির এবং সাজিয়া আফরিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ, ভুক্তভোগী কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-এর মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ একযোগে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
