পৈত্রিক বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, বাড়ি দখল এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের দাবিতে অনশনে বসেছেন সামিরা দেওয়ান নামে এক নারী।ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে টানা ১১ দিন ধরে কদমতলী থানার সামনের রাস্তায় অবস্থান
নিজস্ব প্রতিবেদক: – পৈত্রিক বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, বাড়ি দখল এবং সেখানে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের দাবিতে অনশনে বসেছেন সামিরা দেওয়ান নামে এক নারী। নিজের ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে টানা ১১ দিন ধরে রাজধানীর কদমতলী থানার সামনের রাস্তায় অবস্থান করছেন তিনি।
সামিরা দেওয়ান রাজধানীর কদমতলী থানাসংলগ্ন একটি দেওয়ালের পাশে অবস্থান করছেন। সেখানে টাঙানো একটি ব্যানারে ‘আমরণ অনশন’ লেখা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, চাঁদা না দেওয়ায় তাকে তার পৈত্রিক বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই বাড়িতে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত ১১ দিন ধরে তিনি তার পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করছেন। নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি অনশন করছেন বলে জানান।
কথা বলার সময় সামিয়া দেওয়ান তার ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, পৈত্রিক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে তাকে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। তিনি তার বাড়ি ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হওয়া অপর একটি ভিডিওতে একজন পুরুষকে একটি পুলিশ কার্যালয়ের মতো পরিবেশে বসে কথা বলতে দেখা যায়। তার সামনে বিভিন্ন কাগজপত্র রয়েছে এবং পেছনে পুলিশের একটি সাইনবোর্ডও দেখা যায়। তবে ভিডিওটির বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিষয়টি আইনগতভাবে দেখার/তদন্তের বিষয়, যেহেতু তিনি থানায় জিডি করেছেন তাই আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।
সামিয়া দেওয়ানের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে। পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাকে কী কারণে উচ্ছেদ করা হয়েছে, সম্পত্তিটির প্রকৃত মালিকানা কার এবং সেখানে মাদক ব্যবসার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। একই সঙ্গে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
Array