সরকারি তদন্তে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি প্রমাণিত, ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :- – কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে টাকার বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্ম নিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি উঠে এলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে স্মারক নম্বর-৭০২-এর মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি দাপ্তরিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্ম নিবন্ধন পাওয়া তিন ব্যক্তি ওই ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। স্থানীয় কেউ তাদের চেনেন না এবং তারা সেখানে বসবাসও করেন না।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল ও সাবেক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে ওই জন্ম নিবন্ধনগুলো ইস্যু করার দাবি করেছেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা তিনটি জন্ম নিবন্ধন সনদ ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে তিনটি জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টি সামনে এলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ওই ইউনিয়ন থেকে একইভাবে আরও প্রায় ৪৩টি ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে আরও ২৩টি নিবন্ধনের সন্ধান তদন্ত কর্মকর্তারা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ফলে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ভিনদেশি নাগরিকদের জন্ম নিবন্ধন দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ জুলাই। ওইদিন স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম রেজিস্ট্রার জেনারেলের (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল ও ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলাম যোগসাজশ করে প্রতিটি নিবন্ধনের জন্য ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন রোহিঙ্গা নাগরিক—সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছাকে—জন্ম নিবন্ধন দিয়েছেন।
শফিউল আলম ওই জন্ম নিবন্ধন বাতিল এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে নিজের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে কেন? বিষয়টি দ্রুত তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
