যাত্রাবাড়ীতে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ: মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় টার্গেট?
যাত্রাবাড়ীতে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ: মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় টার্গেট?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এবার সায়েদাবাদ ওয়াসা বস্তি এলাকার কথিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি ও অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সায়েদাবাদ ওয়াসা বস্তি এলাকার সুফি ও তার দুই ছেলে, এবং কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী অটো সজলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত শুভ ও অনিকের নেতৃত্বে একদল লোক এ হামলা চালায়। হামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা জাহাঙ্গীর হোসেনের বাসা ও অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো—হামলাটি সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে হয়েছে! ইনচার্জ ঘটনাস্থলের আশপাশে/সামনে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলে তাদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
মাদকবিরোধী অবস্থানই কি হামলার কারণ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, সায়েদাবাদ ওয়াসা বস্তি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের সঙ্গে কিশোরদের একটি অংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। ফলে কেউ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বললে কিংবা প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়—এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা সত্য হলে এটি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলা নয়; বরং মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই যদি প্রকাশ্যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো কি না?
আর যদি পুলিশ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে থাকে, তাহলে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—সেটিও জনসম্মুখে পরিষ্কার করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ি, যাত্রাবাড়ী থানা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এবং লিখিত অভিযোগ যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করা জরুরি।
মাদক ও কিশোর গ্যাং: নগরীর জন্য বড় হুমকি
মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কিশোর-তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংঘবদ্ধ হামলা, ছিনতাই, অস্ত্রের প্রদর্শন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা।
মাদক কারবারিরা যদি প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েও পার পেয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা সংকটে পড়বে। আর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যদি রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা মাদক সিন্ডিকেটের ছত্রছায়া পায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
দাবি উঠছে নিরপেক্ষ তদন্তের
জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি ও অফিসে হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে সায়েদাবাদ ওয়াসা বস্তি ও যাত্রাবাড়ীর মাদক স্পটগুলোতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসার মূলহোতা, সরবরাহকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কারণ, প্রশ্নটি এখন শুধু একজন বিএনপি নেতার ওপর হামলার নয়—
প্রশ্ন হলো, রাজধানীর বুকে মাদক কারবারিরা কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে প্রকাশ্যে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে, আর সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছে?
