মিরপুরে পল্লবী থানা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব বিল্লালের বিরুদ্ধে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে
বশির আহমেদ :- রাজধানীর মিরপুরে পল্লবী থানা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব বিল্লালের বিরুদ্ধে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে মিরপুর-১১ কালশী কবরস্থানের পেছনের একটি ছয়তলা ভবনে আওয়ামী লীগের পোস্ট শেয়ারের অভিযোগ তুলে দুই যুবককে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আটকের পর তাদের মারধর করে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে গুরুতর পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তারা গ্রামের বাড়িতে ফোন করে অসুস্থ মা ও অসহায় বোনের কাছে টাকা চান। টাকা দিতে না পারায় মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, পুলিশ আসার আগে বিল্লাল নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এতে তারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাদের ভাষ্য, ঘরে বসে অল্প পরিমাণ গাঁজা সেবনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগেই তাদের আটকে এমন নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগী রিজুর মায়ের অভিযোগ, তার ছেলেকে মারধরের পাশাপাশি টাকা দাবি করা হয়। প্রথমে দুই লাখ টাকা এবং পরে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতির আগে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে রিজুর মানিব্যাগে থাকা ১৩ হাজার ৪৭০ টাকাসহ মোট ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের সামনে রিজুকে চড় মারার অভিযোগও করেছেন তারা।
মাদক কারবারিদের কাছ থেকে চাঁদার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালশী কবরস্থানের পেছনে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত শাহিনুরসহ আশপাশের বিভিন্ন মাদকের স্পট থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হয়। মাদকের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধেও চাপ সৃষ্টি বা পাল্টা কর্মসূচির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার বিল্লালের
অভিযোগ অস্বীকার করে বিল্লাল বলেন, “আমি ডিবি পুলিশ পরিচয় দিইনি। আমাকে জানানো হয়েছিল, তারা আওয়ামী লীগের লোক এবং শেখ হাসিনার পক্ষে পোস্ট করেছে। তারা বাসার ভেতরে গাঁজা খাচ্ছিল। আমি শুধু একটি চড় মেরেছি। টাকা-পয়সা চাইনি এবং তাদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলিনি। দুই-তিন ঘণ্টা তাদের বাসায় থেকে তারা সত্যিই আওয়ামী লীগের পোস্ট করেছে কি না, সেটি যাচাই করছিলাম।”
সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শ্রমিক দল নেতার
কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, “কেউ অপরাধ করলে তার দায় দল নেবে না। সে যদি এমন অপকর্ম করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিএনপি ও শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীও বলেন, কাউকে আটক করে মারধর করা বা টাকা দাবি করা গুরুতর অপরাধ। কেউ অপরাধ করলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে পুলিশের কাছে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। দলের কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তারা মত দেন।
এদিকে ভুক্তভোগী রিজুর পরিবার জানিয়েছে, বিল্লাল ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজি, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, “আমরা ঘটনাস্থলে না গেলে তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ আরও বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ায় তারা অখুশি হয়। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিক দল নেতা বিল্লাল ওই যুবকের গায়ে হাত তোলেন।
Array