ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :- কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ‘ডক্টরস ডায়াগনস্টিক এন্ড হাসপাতাল’-এর বিরুদ্ধে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদনের আড়ালে অনুমোদনহীনভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ শয্যার হাসপাতাল ও পূর্ণাঙ্গ ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক লাইসেন্সের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে নির্ধারিত সংখ্যক এমবিবিএস চিকিৎসক, ডিপ্লোমা নার্স ও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট থাকার বিধান রয়েছে।
তবে অভিযোগকারীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন কেবল ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হিসেবে রয়েছে। ক্লিনিকের লাইসেন্স ও অনুমোদিত অপারেশন থিয়েটার (ওটি) না থাকা সত্ত্বেও সেখানে রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, ডিপ্লোমা নার্স ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত সিজারিয়ান (সি-সেকশন), পাকস্থলীর টিউমার ও পিত্তথলির মতো জটিল রোগের অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম ও ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার স্বাধীন বা নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং প্রভাব খাটিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তি ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট (SACMO) দিয়ে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রিএজেন্টের নামে হরমোন ও ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা এবং এক্স-রে কক্ষে টিএলডি (TLD) ব্যাজ ছাড়াই এক্স-রে করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি এড়িয়ে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন স্থানীয় সচেতন নাগরিক জনস্বার্থে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
Array