বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব মির্জা আব্বাসের শারীরিক এবং মানষিক অবস্থার উন্নতির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়ার আবেদন জানিয়েছেনঃ এন এম আবদুল্লাহ (ভিপি উজ্জ্বল)!
নিজস্ব প্রতিনিধি :- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের-এর দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এবং সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এন এম আবদুল্লাহ (ভিপি উজ্জ্বল)। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এই প্রবীণ রাজনীতিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, যা দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য স্বস্তির বিষয়।
মির্জা আব্বাসের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে এন এম আবদুল্লাহ বলেন, তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে সাধারণ কক্ষে স্থানান্তর করা হতে পারে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম সঠিকভাবে এগিয়ে চলছে।
মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে এন এম আবদুল্লাহ বলেন, তার রাজনীতির সূচনা হয়েছিল রাজপথ থেকে, যা ধীরে ধীরে তাকে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে নিয়ে যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর হাত ধরে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় এবং ১৯৭৭ সালে কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি নগর রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। জনসংযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে অল্প সময়েই তিনি রাজধানীর রাজনীতিতে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন।
১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সামনের সারির একজন সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নগর পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেন।
২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা আব্বাস। এ সময় তিনি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধন, জলাশয় রক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং নগর পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ভূমিমন্ত্রী হিসেবেও স্বল্প সময় দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তিনি কখনো রাজনীতি থেকে সরে যাননি। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও দলীয় আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি রাজনৈতিক সাহসিকতার পরিচয় দেন, যদিও সেই নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল।
আমাদের মনে রাখা দরকার, এই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ কারাবাস, চিকিৎসার অভাব এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে তিলে তিলে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
দলের সংকটময় সময়ে মির্জা আব্বাস সবসময় স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন এবং আপসহীন কণ্ঠে বক্তব্য দেন। মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক চাপ তাকে দমাতে পারেনি—বরং তিনি রাজপথেই থেকেছেন। তার মতে, রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর একটি সংগ্রাম।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস এবং জ্ঞান হারান। পরে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
Array