সিরাজদিখানে ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবী স্থানীয় জনসাধারণের!
অনুসন্ধানী রিপোর্টারঃ -মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানাগর এলাকায় দুই পক্ষের মারপিটের ঘটনার জেরে এক জনপ্রতিনিধিকে রাতের বেলায় পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ৩ মার্চ রাত অনুমান ১০ টার দিকে এলাকার দুটি পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষ থেকেই থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মালখানগর ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের পক্ষের এক ব্যক্তির মাথায় আঘাত লেগে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। অন্য পক্ষের কয়েকজনের হাত-পায়ে সামান্য আঘাত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ থানায় জমা দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তার পরদিন রাতেই অর্থাৎ ৫ মার্চ রাত অনুমান ১২ টার দিকে পুলিশ হঠাৎ অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ওই সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ও সহকারী পুলিশ সুপার থানা এলাকায় ছিলেন না বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন রাত প্রায় ১২ টার দিজে দেলোয়ার হোসেনকে থানায় নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পেয়ে তারই ছোট ভাই যুবদল নেতা নাদিম জাহান আজিম সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তখন সিরাজদিখান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক এসআই তাকে জানান, তিনি একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে গিয়েছেন এবং অন্য কোনো অভিযোগের বিষয় তিনি জানেন না। পরে সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবগত করেন তিনি । তার বক্তব্য অনুযায়ী, সহকারী পুলিশ সুপার সিরাজদিখান সার্কেল ফোনে বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল এলাকায় যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাকে ইউপি সদস্য দোলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার নির্দেশ দেওয়ার পরও দেলোয়ার হোসেনকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি একটি মামলার প্রেক্ষিতে নথিভুক্ত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে বিস্তারিত বিষয়ে তিনিও তখন অবগত ছিলেন না।
এদিকে মারামারির ঘটনার পরদিন হাতে পাওয়া মামলার কাগজে বাদী হিসেবে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায়। মামলায় জায়গা জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার কথা বলা হলেও স্থানীয় ও দোলোয়ার হোসেন ও তার পরিবারের দাবী দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের কোনো জমি সংক্রান্ত কোন বিরোধ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে শাহাবুদ্দিন এলাকায় একটি জমি কেনেন এবং পরে তা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। সে সময় এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন তাকে বাধা দিলে ক্ষোভ থেকে তার বিরুদ্ধে বারবার মামলা করা হচ্ছে বলে দাবী করেন তারা। অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী নারী। তার পারিবারিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবী, ওই নারীর পিতৃ পরিচয় সম্পর্কে এলাকায় স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে আইনগতভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। পুলিশের পক্ষপাতিত্বের কারণে যাতে এলাকায় অযথা বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার সিরাজদিখান সার্কেল আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টা জানতাম না, আপনার কাছে শুনলাম। খুজ নিয়ে বিষয়টা দেখব।
অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন,স্থানীয় একে অপরের সাথে শত্রুতা, বিভ্রান্তিসহ মারপিট ও হয়রানী বন্ধের স্বার্থে ঘটনা নিরোপেক্ষ ভাবে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।
Array