শাহজাদপুরে সেচ লাইসেন্স বাতিল নিয়ে রহস্য, প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও অনিয়মের অভিযোগ
মুক্তা মিয়া :- শাহজাদপুরে সেচ লাইসেন্স বাতিল নিয়ে রহস্য, প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও অনিয়মের অভিযোগ। শাহজাদপুর উপজেলা-এ সেচ লাইসেন্স বাতিলকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একই বিরোধে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, বিভ্রান্তি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সেচ স্কিমের দূরত্ব নিয়ে বিরোধ চলছিল দুই পক্ষ—এমদাদুল হক ও শাহ আলম মোল্লার মধ্যে। বিষয়টি উপজেলা সেচ কমিটির কাছে গেলে ২০২৫ সালের ৫ জুন অনুষ্ঠিত সভায় উভয় পক্ষকেই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তে আদালতের পর্যবেক্ষণও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল এবং জানানো হয়, এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
কিন্তু পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায় ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে। ওই শুনানিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে একতরফাভাবে শাহ আলম মোল্লার সেচ লাইসেন্স বাতিল করা হয়। শুধু তাই নয়, তার জমিতে পানি সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রতিপক্ষ এমদাদুল হককে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তে কোনো নতুন কারিগরি জরিপ, মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন বা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ মতামতের উল্লেখ নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কী কারণে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো?
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গণশুনানির স্বচ্ছতা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, শুনানির নোটিশে বিবাদীর উপস্থিতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তাকে তলবই করা হয়নি। ফলে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশে সেচ স্কিম অনুমোদন ও বাতিলের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে সেচ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। অথচ শাহজাদপুরের এই ঘটনায় সেই নীতিমালার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এছাড়া, এমদাদুল হককে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিপক্ষের জমিতে পানি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় নতুন করে নির্ভরশীলতা ও ভবিষ্যৎ বিরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মত দিয়েছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, “যদি আগের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়, তাহলে বর্তমান বাতিলের ভিত্তি কী? আর যদি বর্তমানটাই সঠিক হয়, তাহলে আগের অনুমোদন কেন দেওয়া হয়েছিল?”
এ ঘটনায় এখন জোর দাবি উঠেছে—
* দুইটি সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা
* পুনরায় নিরপেক্ষ মাঠ জরিপ পরিচালনাস
* ম্পূর্ণ সেচ লাইসেন্স প্রক্রিয়া তদন্ত করা
অন্যদিকে, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাশফিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি শুধু একটি সেচ লাইসেন্স বিরোধ নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে কৃষি উৎপাদন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন
Array