বাঙালির পাতে নেই ইলিশ! স্বর্ণছোঁয়া দামে দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার
স্টাফ রিপোর্টারঃ জসিম উদ্দিন :- বাঙালির পাতে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ঐতিহ্যের সেরা আকর্ষণ ইলিশ মাছ এখন সাধারণ মানুষের কাছে কেবলই এক বিলাসী স্বপ্ন। রুপালি ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন আবেগ ও সংস্কৃতির একটা বড় অংশ। প্রজনন মৌসুম, আহরণে নানা নিষেধাজ্ঞা ও সিন্ডিকেটের প্রভাবে দেশের খুচরা বাজারে ইলিশের দাম পৌঁছেছে আকাশচুম্বী পর্যায়ে।
মেঘের ডাকে মন কেড়ে নেয়, আর ইলিশের ঘ্রাণ প্লেটে সুখ এনে দেয়! যা যেন বর্তমানে এক স্বপ্ন! যে মাছ একসময় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সাপ্তাহিক কিংবা পাক্ষিক খাবারের তালিকায় নিয়মিত স্থান পেত, তা আজ অনেকের জন্যই নাগালের বাইরে চলে গেছে।
আকাশছোঁয়া দাম ও বাস্তবচিত্রে, কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, এক কেজির বেশি ওজনের একটি ইলিশের কেজিপ্রতি দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা বা তারও বেশি। মাঝারি আকারের (৭০০-৯০০ গ্রাম) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়, এমনকি জাটকা বা ছোট আকারের ইলিশ কিনতে হলেও গুনতে হচ্ছে ১,০০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। বর্ষা মানেই আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা, আর ঘরে ঘরে ইলিশ ভাজার মেলা। যা কেবল আবেগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সীমিত আয়ের একটি পরিবারের দৈনিক বাজার বাজেটের সাথে এই আকাশছোঁয়া দাম কোনো ভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমান বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে প্রধান কারণসমূহের মধ্য অন্যতম!
ডিজেল, ট্রলার মেরামত ও জেলেদের আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ও সাগর থেকে মাছ আহরণের সার্বিক ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। নদীর স্বাভাবিক নাব্য হ্রাস এবং আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশের জাল ফেলা বা মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আড়তদার থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত একাধিক হাতবদলে হু হু করে বাড়ে ইলিশের দাম। স্থানীয় বাজারগুলোতে তদারকির অভাবেও অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। সীমান্তের ঐ পার ইলিশের চাহিদা থাকায় অনেক সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
পদ্মার রুপালি ইলিশ, বাঙালির অহংকার বলা হলেও আজ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে, সাধারণ চাকুরিজীবী, দিনমজুর ও নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মতে, মাছের বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছের দিকে তাকানো ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই। সংসারের অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে এমনিতেই দিশেহারা মানুষ, তার ওপর ইলিশের এই ‘স্বর্ণছোঁয়া’ দাম তাদের পাতে প্রিয় মাছটির স্বাদ নেওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পরেছে।
ইলিশের চড়া দাম কমাতে ও সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসতে প্রয়োজন কঠোর বাজার তদারকি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা। ডিজেল ও জেলেদের প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর সরকারি ভরতুকি দিয়ে আহরণ খরচ কমানো। অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করে তবেই রপ্তানি বা পাচার প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা। স্বাদের দিক থেকে অতুলনীয় আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ যদি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেই থেকে যায়, তবে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের ঐতিহ্যই দিন দিন হুমকির মুখে পড়বে। দামের ঝাঁজে ইলিশ কেনা দায়! সাধারণ বাঙালির পাতে ইলিশ ফেরাতে চাই সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি।
