রাজৈরে কুখ্যাত মানবপাচার কারী জুলহাস গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার, শরীফুল ইসলাম :- মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বহুল আলোচিত ও কুখ্যাত মানবপাচারকারী জুলহাস সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। ইতালিতে বৈধভাবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষকে লিবিয়ায় পাচার, সেখানে সশস্ত্র মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, র্যাব-১০ এর একটি বিশেষ অভিযানে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে জুলহাস সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে রাজৈর থানা পুলিশও সহযোগিতা করে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হতো। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়ায় পাঠিয়ে সেখানে ভয়ংকর মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হতো। এরপর শুরু হতো নির্মম নির্যাতন, জিম্মি করে রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণের নামে আরও লাখ লাখ টাকা দাবি করার ভয়াবহ ঘটনা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জুলহাস সর্দারের নেতৃত্বাধীন চক্রের মাধ্যমে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন বাংলাদেশি মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লিবিয়ায় মাফিয়া চক্র তাদের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত। অনেক পরিবার শেষ সম্বল জমি-জমা ও বসতভিটা বিক্রি করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করলেও এখনও অনেক বাংলাদেশি লিবিয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।
জুলহাস সর্দারের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজৈর থানায় ভিড় করেন অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা তাদের সন্তান ও স্বজনদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ একটি বিশেষ মানবপাচার প্রতিরোধ ও মনিটরিং সেল গঠন করেছে। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। তিনি সাধারণ মানুষকে দালাল চক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া জুলহাস সর্দারের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৬ থেকে ১৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় রাজৈরসহ পুরো মাদারীপুর জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, শুধু জুলহাস সর্দার নয়, মানবপাচার চক্রের মূল হোতা ও সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি লিবিয়ায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Array