পটুয়াখালীতে দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তার: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদঃ সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :- পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে দল-মত ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় অনেক সময় গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসঙ্গতি জনসম্মুখে তুলে ধরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
পটুয়াখালীর ঘটনায় দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে বলা হয়, সাংবাদিককে হয়রানি, নির্যাতন কিংবা গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য আড়াল করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে সব সাংবাদিককে অসাধু, হলুদ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, একজন সাংবাদিকের চেহারা, পরিচিতি কিংবা জনপ্রিয়তা নয়; তার সততা, পেশাগত দায়িত্ববোধ এবং সত্য প্রকাশের সাহসই তার পরিচয়ের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তারা সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, পটুয়াখালীর ঘটনাটি শুধু দুই সাংবাদিকের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রশ্নও জড়িত। তাই এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে জোরালো ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রয়োজন।
এতে আরও বলা হয়, দেশে অনেক সাংবাদিক সংগঠন থাকলেও সব সাংবাদিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে দল-মত, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়সংগতভাবে পাশে দাঁড়াবে—এমন একটি কার্যকর ও সর্বজনীন সাংবাদিক সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
এমন সংগঠন প্রয়োজন, যে সংগঠন কোনো সাংবাদিকের পরিচয়, মত কিংবা কর্মরত প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে নয়; অন্যায় হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং কোনো সাংবাদিক নির্যাতিত হলে ন্যায়সংগতভাবে তার পাশে দাঁড়াবে।
বক্তব্যে বলা হয়, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থের বিষয় নয়। এটি সাধারণ মানুষের সত্য জানার অধিকার এবং তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
