খিলক্ষেতে ৩ অপ সাংবাদিক গ্রেফতার
মোখলেছের রহমান :- রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় দোকানদারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি, মারধর ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) খিলক্ষেত ও হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ সুজা (৪৩) মো. নুরুল আমিন শিমুল (২৪) ও মো. আব্দুল কুদ্দুস (৩১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খিলক্ষেত বাজারে বেপারীপাড়া মাছ বাজারে বাদীর মালিকানাধীন ভূমিতে ১৪/১৫টি অস্থায়ী দোকান রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রেফতার আসামিরা ওই দোকানদারদের কাছে দৈনিক ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিল। দোকানদাররা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।
সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে দোকানে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। এ সময় মো. আজহারুল (৩৫) নামে এক দোকানদার চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আসামি শিমুল তাকে কিল-ঘুসি মেরে জখম করে। পরবর্তীতে তারা জোরপূর্বক আজহারুলের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তার দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দেয়- চাঁদা না দিলে সব দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে। দোকানদারদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারদের মধ্যে মো. আব্দুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে খিলক্ষেত এলাকায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তিনি নিজেই একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক দাবি করে ফেসবুকে সময়ের কথা নামে একটি পেজ খুলে তা পরিচালনা করতেন এবং সেই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার আড়ালে অপকর্ম করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী দোকানদারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খিলক্ষেত থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে খিলক্ষেতের বেপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুল ও অপ সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেফতার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাতিরঝিল থানার উলন রোড থেকে মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ সুজাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Array