শাহজাদপুরে সেচ লাইসেন্সে ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: ইউএনও’র সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, অভিযুক্ত বিএডিসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি
সিরাজগঞ্জপ্রতিনিধি :- সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় সেচ লাইসেন্স বাতিলকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এবার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার হতদরিদ্র কৃষক শাহ আলম মোল্লার সেচ লাইসেন্স গণশুনানি ছাড়াই বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফিকা হোসেনের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এরই মধ্যে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষক শাহ আলম মোল্লা। তিনি দাবি করেন, শাহজাদপুর উপজেলার বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন দফায় দফায় তার কাছ থেকে আনুমানিক সাড়ে সাত লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, সেচ লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়ে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে।
শাহ আলম মোল্লা বলেন, “লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে আমার কাছ থেকে বারবার টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন লাইসেন্সও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আমি সর্বস্বান্ত।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। যে কোনো সময় একই ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এতে করে পুরো এলাকায় এক ধরনের ভীতি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগী কৃষককে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের একাধিকবার ফোন করা হলেও ইউএনও মাশফিকা হোসেন সাড়া দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘুষ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবিতে বিএডিসি চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
