ইতালির ভিসার নামে ২২ লাখ, লিবিয়ায় মানবপাচার গ্রেপ্তার এনামুল
স্টাফ রিপোর্টার, শরীফুল বেপারী :- ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ২২ লাখ টাকা নেওয়ার পর এক যুবককে লিবিয়ায় পাঠিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে এনামুল মাতুব্বর (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
জেলার রাজৈর থানার পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এনামুল রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের এসাহাক মাতুব্বরের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে এনামুলের বাড়ি একই এলাকায়। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী ইতালি যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে এনামুল ও তার সহযোগীরা ইতালিতে থাকা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে স্পন্সর ভিসায় পাঠানোর পাশাপাশি সেখানে উচ্চ বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য ২২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিচিত ও বিশ্বস্ত হওয়ায় ভুক্তভোগী তাদের কথায় বিশ্বাস করেন। গত বছরের ২ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকায় নিজ বাড়িতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এনামুলের লোকজনের কাছে ২২ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট তুলে দেন তিনি।
পরে গত ৭ জানুয়ারি ভুক্তভোগীকে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে এনামুল তাকে গ্রহণ করে নিজের বাসায় নিয়ে রাখেন। কয়েক দিন পর তাকে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, লিবিয়ায় ওই চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করেন এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। এ সময় এনামুল বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ভুক্তভোগীকে মুক্ত করার জন্য তার স্বজনেরা বিভিন্ন সময়ে এনামুলকে আরও ২০ লাখ টাকা দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে টাকা দেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে মুক্ত করা হয়নি। বরং তাকে জিম্মি রেখে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে কৌশলে ওই চক্রের কবল থেকে পালিয়ে লিবিয়ায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তা নেন ভুক্তভোগী। পরে গত ২৮ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় রাজৈর থানায় মানবপাচারের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়। ওই মামলায় এনামুল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার এনামুলের পিসিপিআর যাচাই করে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মানবপাচার মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী, মানবপাচারকারী ও চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Array