জাতীয় প্রেসক্লাব এখন আমলা-পিআরও আর পকেট সাংবাদিকদের পুনর্বাসন কেন্দ্র? সরকার জামাল – সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ।
জাতীয় প্রেসক্লাব এখন আমলা-পিআরও আর পকেট সাংবাদিকদের পুনর্বাসন কেন্দ্র ? সরকার জামাল – সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ।
লজ্জা! চরম লজ্জা! যে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকার কথা দেশের বরেণ্য, সৎ ও পেশাদার সাংবাদিকদের, সেই জাতীয় প্রেসক্লাব আজ দখল করে বসে আছে একদল আমলা, সরকারি পিআরও, ভুঁইফোড় রাজনীতিবিদ আর আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট!
জাতীয় প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদ দখল করে আছেন এমন অনেক তথাকথিত নেতা, যাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। সাংবাদিকতার চেয়ে তাদের আসল শক্তি ছিল ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা, প্রভাব সৃষ্টি, ব্ল্যাকমেইলিং, ধান্দাবাজি, মদ-নারী আর অর্থের খেলায় পারদর্শিতা।
অথচ এই পেশায় সারাজীবন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা শতভাগ পেশাদার বহু সাংবাদিক আজও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার মতো ন্যূনতম স্বীকাটুকুও পান না।
যারা ২০-৩০ বছর ধরে প্রকৃত সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন, তারা সদস্যপদের আশায় বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তাদের আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়।
অথচ কোনোদিন একটি সংবাদও না লেখা তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা, মন্ত্রীদের চাটুকার পিআরও, কিংবা কোনো নেতার পা-চাটা ডামি সম্পাদকরা দিব্যি ভিআইপি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন!
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের বড় একটি অংশ অপসাংবাদিক, টাউট, দালাল আর সুবিধাবাদীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
নিজেদের চেয়ার ও প্রভাব ধরে রাখতে রাজনৈতিক প্যানেলগুলো বছরের পর বছর পাইকারি হারে ভুয়া ভোটার বানিয়েছে।
আর প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের আবেদনপত্র মাসের পর মাস ফাইলবন্দি পড়ে থাকে।
সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা তদবির বাণিজ্য, ব্ল্যাকমেইলিং, দখলদারি আর আখের গোছানোর সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন—সময় কিন্তু বদলাচ্ছে।
এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের পকেট সংগঠন নয়, কোনো আমলার অবসর কাটানোর ক্লাবও নয়।
অনতিবিলম্বে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সব অ-সাংবাদিক, পিআরও ও ভুয়া ভোটারদের বের করতে হবে।
প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
তা না হলে একদিন এই মুখোশধারী হলুদ সাংবাদিকদের আসল চেহারা জনগণের সামনেই উন্মোচিত হবে।
Array