মুক্তিপণের নামে ৬০ লাখ টাকা, শেষ পর্যন্ত লিবিয়ায় প্রাণ গেল মাদারীপুরের যুবকের
স্টাফ রিপোর্টার, শরীফুল ইসলাম :-ইতালিতে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজৈরের যুবক সোহাগ মুন্সীকে। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ। পরিবারের অভিযোগ, ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি করে দীর্ঘদিন নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি—নির্মম নির্যাতনের মধ্যেই প্রাণ হারান সোহাগ।
নিহত সোহাগ মুন্সী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ মুন্সীর ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, একই এলাকার ময়না বেগম ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে জুলহাসের মাধ্যমে সোহাগকে লিবিয়ায় পাঠান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি মানবপাচারকারী মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই সোহাগের ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হতো এবং তাকে জীবিত ফেরাতে বারবার মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো। ছেলেকে বাঁচানোর আশায় পরিবারের সদস্যরা ময়না বেগম ও জুলহাসের কাছে ধাপে ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও সোহাগকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) লিবিয়ায় নির্মম নির্যাতনের একপর্যায়ে সোহাগ মুন্সী মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহতের স্বজনরা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ময়না বেগম, জুলহাস এবং সংশ্লিষ্ট দালালচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোহাগ মুন্সীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Array