গাইবান্ধায় দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নিয়ে তোলপাড় “দুর্নীতিবাজের হাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ”—জনমনে আতঙ্ক, সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক গাইবান্ধা :- গাইবান্ধায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও জনমনে আতঙ্ক। বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, কর্মীদের বেতন ও সনদ আটকে রাখা, ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ এবং নারী হয়রানির অভিযোগে আলোচিত গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)–এর নির্বাহী পরিচালক ছালাম মিয়াকে দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবে দেখায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে।
সচেতন নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ—
“যার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ, তিনি কীভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেন?”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)–এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সাবেক কর্মী অভিযোগ করেছেন, চাকরির নামে কর্মীদের কাছ থেকে স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাংক চেক নেওয়া হতো, চাকরি ছাড়ার পর বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও শিক্ষাগত সনদপত্র আটকে রাখা হতো।
এছাড়া নারী প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগও উঠেছে সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণের নামে আবাসিকে থাকা নারী প্রশিক্ষণার্থীদের গভীর রাতে ডেকে নেওয়া হতো বিভিন্ন কক্ষে।
স্থানীয়দের দাবি, এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গোবিন্দগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
“পকেট সাংবাদিক” নিয়ে সভার অভিযোগ:
সম্প্রতি দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এড়িয়ে কিছু “পকেট সাংবাদিক” ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের নিয়ে ওই সভা আয়োজন করা হয়েছে।
একাধিক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে নিজেদের অনুগতদের মাধ্যমে “ইমেজ রক্ষার চেষ্টা” চলছে।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের অনেকেই বলছেন—
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই চাপ, ভয়ভীতি ও অপপ্রচারের শিকার হতে হচ্ছে।”
গাইবান্ধার সচেতন মহল বলছে,
“দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি যদি বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা ধ্বংস হবে। এতে দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
তারা অবিলম্বে—
ছালাম মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত,
দুদক প্রতিরোধ কমিটি পুনর্গঠন,
এনজিওর আর্থিক অডিট,
কর্মীদের আটকে রাখা বেতন ও সনদ ফেরত,
এবং নারী হয়রানির অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এত গুরুতর অভিযোগের পরও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন—
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কোথায়? নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা নিয়ম?”
