গাইবান্ধায় এনজিও সাম্রাজ্য নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ,দুদকের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ক্ষোভ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :- গাইবান্ধায় প্রভাবশালী এনজিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি এবার প্রশ্ন উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই কেউ কেউ দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিতে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে জনমনে চরম সন্দেহ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন,
“যাদের বিরুদ্ধেই অনিয়মের অভিযোগ, তারাই যদি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিতে স্থান পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়?”
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। এতে করে প্রকৃত অভিযোগকারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এছাড়াও দুদকের কিছু কর্মকর্তার সম্পদ, জীবনযাপন ও আচরণ নিয়েও স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,
“দুদক যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
এদিকে গাইবান্ধার বিভিন্ন এনজিওকে ঘিরে বৈদেশিক অনুদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাত, জমি ব্যবসা ও প্রকল্পভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ জমা হয়েছে, তা তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
সচেতন মহলের দাবি—
দুদকের স্থানীয় কার্যক্রমের ওপর স্বাধীন তদন্ত করতে হবে
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণ করতে হবে
এনজিওগুলোর আর্থিক লেনদেন, অনুদান ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশ করতে হবে
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে
তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
