সাভারে চাঞ্চল্যকর এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যা: র্যাব-১০ এর অভিযানে এজাহারনামীয় ৪ অভিযুক্ত মুন্সীগঞ্জ এবং র্যাব-৪ এর অভিযানে ৪জন এজাহারনামীয় অভিযুক্ত আমিনবাজার হতে গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক :- ঢাকার সাভারে চাঞ্চল্যকর এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যা: র্যাব-১০ এর অভিযানে এজাহারনামীয় ৪ অভিযুক্ত মুন্সীগঞ্জ এবং র্যাব-৪ এর অভিযানে ৪জন এজাহারনামীয় অভিযুক্ত আমিনবাজার হতে গ্রেফতার।
সাম্প্রতিক ঢাকার সাভার আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮)’কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক এবং তার কয়েকজন সহযোগী কর্তৃক একজন অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ঘটনার রাতে একটি অটো রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন তার প্রতিবাদ করেন। এসময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সাথে এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তাঁর ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত হত্যার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নিমিত্তে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০, সদর কোম্পানির চৌকস একটি আভিযানিক দল গতকাল ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত অনুমানিক ১৯.৩০ ঘটিকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যা কাণ্ডের সাথে জড়িত এজাহারনামীয় ৪ জন অভিযুক্তকে ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের নাম ১। আলাউদ্দিন (২৬), পিতা- মোজাম্মেল, ২। আপন (৩০), ৩। জিহাদ (২০), উভয় পিতা- সামসুল, ৪। ইমরান (২৬), পিতা- মৃত নজরুল, সর্ব সাং- আমিনবাজার, থানা- সাভার, জেলা- ঢাকা বলে জানা যায়। আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আপন (৩০) সাভার থানার ০৩টি মাদক মামলার আসামি।
এছাড়াও একই ঘটনায় র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার থানাধীন আমিনবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪ জন এজাহারনামীয় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের নাম ১। নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), পিতাঃ মৃত আব্দুল জলিল, ২। মোঃ রাকিব মিয়া (২৮), পিতাঃ মোঃ বজলু শেখ, ৩। ছাব্বির আহম্মেদ (২৪), পিতাঃ মৃত হালিম মিয়া এবং ৪। মোঃ ওয়াসিম (৪০), পিতাঃ মোঃ জিন্নত আলী জেলা-ঢাকাদের’কে গ্রেফতার করা হয়।
বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই দেশের অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়োপযোগী অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে সংস্থাটি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
Array