সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান এবং নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার
নিজস্ব প্রতিবেদক :- সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান এবং নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার
দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য সুদৃঢ় করা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশ-২০২৬। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৮২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪৫ বছরের পথচলা উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে দেশের আটটি বিভাগ, ৬৪টি জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিক, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, শিল্পপতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, সমাবেশে এক হাজারের বেশি সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় সাংবাদিকদের মিলনমেলায়।
সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান
সমাবেশে প্রধান অতিথি, উদ্বোধক ও অন্যান্য বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র, রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি, ভয়ভীতি ও পেশাগত বাধা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও পেশাগত সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রধান অতিথি ও উদ্বোধকের বক্তব্য
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মো. জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি। তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব, স্বাধীন সংবাদ পরিবেশ এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বশীল পেশা। সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পেশাগত ঐক্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”
নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা
সমাবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিদায়ী সভাপতি আছিয়া আক্তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন।
নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মো. আলমগীর গনি এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব হিসেবে মো. মনজুর হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন নেতৃত্বের প্রতি সংগঠনের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানান এবং সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা ও পেশাগত ঐক্য বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সমাবেশের বিভিন্ন অধিবেশন সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন মহানগর কোর কমিটির সভাপতি এম এম হোসাইন আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব মামুন-অর-রশিদ।
অতিথিদের উপস্থিতি
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মো. ওবায়দুল রহমান শাহিন, সংসদ সদস্য মো. সাইয়েদ আহমেদ, এমপি মো. মাসুদ সাঈদী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নীতি নির্ধারক পরিষদের সভাপতি মো. জামাল হোসেন, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি ও সিইও এবং বিআইএর সভাপতি বি এম ইউসুফ আলী, ভাইয়া ব্রডকাস্ট লিমিটেডের এমডি কায়েস আহমেদ সেলিম, পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (আসপাডা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লায়ন আব্দুর রশিদ, নারী উদ্যোক্তা রোমানা জান্নাত লিজা, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস মিশনের চেয়ারম্যান ডা. এম. মোক্তার হোসেন, এক্সিলেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এমডি ও সিইও আনোয়ার হোসেন রানা এবং ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম এমদাদুল হক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিথি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেল, সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শওকত আলী খান এবং ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নীতি নির্ধারক পরিষদের সদস্য শাহজাহান মোল্লা, খায়রুল ইসলাম, এম আর প্রিন্স, আতিকুর রহমান আজাদ, মুহাম্মাদ আবু মুসা ও রাব্বী মোল্লাসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও সমাবেশে অংশ নেন।
সাংবাদিকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন জেলা নেতারা
দিনব্যাপী সমাবেশের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা তাঁদের নিজ নিজ অঞ্চলের সমস্যা, পেশাগত চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বক্তারা সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
নতুন নেতৃত্ব আগামী দিনে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, পেশাগত নিরাপত্তা এবং সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতারা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রেফেল ড্র
সমাবেশের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আকর্ষণীয় রেফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিরা অংশ নেন। রেফেল ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ীদের মধ্যে মূল্যবান উপহার বিতরণ করা হয়।
পেশাগত ঐক্য, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা, নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে সমাপ্তি ঘটে জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশ-২০২৬-এর।
Array