চট্টগ্রাম বন্দরে চাঞ্চল্য “ফাহিম গ্রুপ”-এর আড়ালে মানি লন্ডারিং, চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির ভয়াবহ অভিযোগ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :- চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও আলোচনায় এসেছে কথিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান “ফাহিম এ্যাটেয়ার অ্যান্ড কম্পোজিট লি । প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ পাচার, হুন্ডি বাণিজ্য, শুল্ক ফাঁকি এবং তথ্য গোপন করে কাপড় আমদানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে কাপড় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের দিকেও, যিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চায়না থেকে ফেব্রিকস আমদানির নামে ফাহিম গ্রুপের ইনভয়েস ব্যবহার করে প্রকৃত পণ্যের তথ্য গোপন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে এবং সেই টাকার বিপরীতে অবৈধভাবে পণ্য দেশে আনা হচ্ছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ফাহিম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট একাধিক কন্টেইনার আটকে রয়েছে। এসব কন্টেইনার দ্রুত ছাড় করাতে একটি শক্তিশালী চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজসের মাধ্যমেই দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলে আসছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চায়না থেকে আমদানিকৃত এসব ফেব্রিকস সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ঢাকার সদরঘাটসহ আশপাশের বিভিন্ন পাইকারি মার্কেটে পৌঁছাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য গোপন ও শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে আনা এসব পণ্য দেশের বাজারে বিক্রি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিপুল অংকের অবৈধ মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এর আগেও তথ্য গোপন করে কন্টেইনার ছাড়ের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে অনিয়ম ধরা পড়েছিল বলে জানা গেছে। তারপরও রহস্যজনক কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এটি শুধুমাত্র শুল্ক ফাঁকি নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ মানি লন্ডারিং ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড, যেখানে বিদেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি ভুয়া ঘোষণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব লুটপাট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও পরিমাণ গোপন করে কম দামে ঘোষণা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মহল ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU), কাস্টমস গোয়েন্দা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি এখনই সমন্বিত তদন্তে না নামে, তাহলে এই চক্র আরও ভয়ংকর রূপ নেবে। এতে দেশের অর্থনীতি, বৈধ আমদানি ব্যবস্থা এবং আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
