বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি
ঠাকুরগাঁও (বালিয়াডাঙ্গী) প্রতিনিধিঃ – ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, দুপুরে খেলাধুলা শেষে স্কুলের দেওয়া দুধ খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের পেটব্যথা শুরু হয় এবং বমি হতে থাকে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চাদের নষ্ট দুধ দেওয়া হয়েছে, যে কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন বলেন, বাচ্চারা দুধ খাওয়ার সময় জানায় যে স্বাদ টক লাগছে। পরে প্যাকেট খুলে দেখি দুধ নষ্ট হয়ে দইয়ের মতো হয়ে গেছে। তবে নিষেধ করার আগেই অনেকে দুধ খেয়ে ফেলে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছুটি হয়ে যাওয়ায় তাদের কি অবস্থা জানা নেই । দুপুরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরাও এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফি চৌধুরী বলেন, প্যাকেটের গায়ে দুধের মেয়াদ ঠিকই ছিল, তবে ভেতরের দুধ যে নষ্ট হয়ে গেছে, তা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। দুধ খেয়ে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুধ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি আবু হেলাল বলেন, আমরা স্কুলে আরডি কোম্পানির দুধ সরবরাহ করি। দেওয়ার সময় শিক্ষকদের বলে দেওয়া হয়, দুধ নষ্ট বা ফাটা থাকলে যেন বাচ্চাদের না খাওয়ানো হয়। আমরা একদিন আগেই এই দুধ স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলাম। এখন কেন এমন সমস্যা হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সার্বিক বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনসহ আমরা সার্বিক তদারকি করছি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত রায় বলেন, দুপুরে পেটব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে আসে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। বর্তমানে কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়।
Array