বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এএসএম শামসুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ
বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি :- বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এএসএম শামসুদ্দিন আহমেদ-কে ধরে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ এবং তদন্তের কথা উল্লেখ আছে।
সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো
জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ
তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
অভিযোগে কালিকাপুর এলাকায় প্রায় ২২ ডিসিম জমি, বগাদিয়া–কালিকাপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০ ডিসিম জমি, এবং মাইজদীতে ফ্ল্যাট/প্লট থাকার অভিযোগ।
এসব সম্পদের বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এগুলোর মালিকানা ও অর্থের উৎস সরকারি নথি দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সরকারি খাল দখলের অভিযোগ
তাঁর জমিতে রাস্তা তৈরির জন্য সরকারি খাল দখলের অভিযোগ।
সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ
করা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে সেনবাগের কাদরা ইউনিয়নের হিজলী গ্রামে সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০টি গাছ কাটা হয়।
তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা হিসেবে শামসুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে গাছ তাদের জিম্মায় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সোনাইমুড়ীতে গাছ কাটার ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ
২০২৩ সালের মে মাসে ছনগাঁও এলাকায় সামাজিক বনায়নের প্রায় ২০টি গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে—অভিযোগ অনুযায়ী তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেননি এবং অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
উৎকোচ/ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
মামলার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায় এবং সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: দুদকে অভিযোগ
প্রকাশিত প্রতিবেদনে নোয়াখালী দুদকের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে অনিয়ম ও জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে দুদকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানও বলেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
—৮ আগস্ট ২০২৬ মমিনুল ইসলাম পিজন নামে একজন ব্যক্তি নোয়াখালী দুদক কার্যালয়ে সামছুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, দায়িত্বে অবহেলা, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া এবং উৎকোচের অভিযোগ রয়েছে।
কালিকাপুর এলাকায় প্রায় ২২ শতাংশ জমি
বগাদিয়া–কালিকাপুর বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি
কালিকাপুরে পৈতৃক জমিতে দ্বিতল ভবন নির্মাণের দাবি
মাইজদীর দীঘিরপাড় আবাসিক এলাকায় ‘আপন নিবাস’ নামে একটি ফ্ল্যাটে থাকার দাবি
ওই ফ্ল্যাটের পাশে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্লট কেনার অভিযোগ
ওই জমিতে যাতায়াতের জন্য সরকারি খাল দখলের অভিযোগ
