মতিঝিলে বেসিক ব্যাংকের পরিত্যক্ত ভবন: অব্যবস্থাপনা, নজরদারির অভাব নাকি দুর্নীতির নীরব স্মারক?
মোঃ আনিসুর রহমান অপু :- রাজধানীর আর্থিক কেন্দ্র মতিঝিলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের উত্তর পাশে ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিকট অবস্থিত বেসিক ব্যাংকের বহুতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অকার্যকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই ভবনটি আজ অনেকের কাছে অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা এবং জবাবদিহিতার সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, ভবনটির নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলেও দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ফলে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ কার্যত অকেজো অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। যদিও প্রকল্প ব্যয় ও অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত বেসিক ব্যাংকের এই ভবনটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে অতীতে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বছরের পর বছর অব্যবহৃত থাকা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি পরিকল্পনা, তদারকি, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা ও সিদ্ধান্তহীনতা থাকলে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ জনগণকেই।
তবে দুর্নীতি দমন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বেসিক ব্যাংকের এই ভবনের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, বেসিক ব্যাংকের মতিঝিলস্থ ভবনটির বর্তমান অবস্থা, প্রকৃত ব্যয়, ব্যবহার না হওয়ার কারণ এবং সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। পাশাপাশি দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জনগণের প্রত্যাশা, অবহেলা ও অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবে আরও দৃশ্যমান হবে।
