নিজস্ব প্রতিবেদক :- আজিজুল হক নামের এক মাদক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের দুই সদস্যকে ধরলো জনতা। সেই মাদক ব্যবসায়ীদের কৌশলে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুর ইসলাম শনিবার থেকে তদন্তে মাঠে নেমেছেন।
জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজানা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী আজিজুল হক তার ছেলে আসাদুল ও স্ত্রী ছালেহাকে আটক করে শুক্রবার সন্ধ্যার পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় জনতা। পুলিশ আহত অবস্থায় তাদেরকে কেন্দুয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কৌশলে তাদেরকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা । আজিজুল হক ও তার ছেলে আসাদুল এবং স্ত্রী ছালেহা দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন নিজ এলাকায়। একলাবাসীর পক্ষ থেকে তাদেরকে বারবার বাধা নিষেধ করলেও তারা অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।সান্দিকোনা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো: জুয়েল মিয়া জানান, চেংজানা গ্রামের আজিজুল হক একজন মাদক ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসার সাথে তার পরিবারের সদস্যরাও জড়িত। মাদক ব্যবসা করে এলাকার উঠতি বয়সের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ১৯ জুন শুক্রবার বিকেলে সাহিতপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি শামছু মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া আজিজুলের বাড়িতে গিয়ে মাদক ব্যবসা বন্ধ করার দাবি জানান। এ সময় আজিজুল ও তার স্বজনরা কাজলকে বেধড়ক মারপিট করে। ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার উত্তেজিত জনতা আজিজুলের বাড়িতে ছুটে যান।সেখানে আজিজুল ও তার ছেলেকে মারপিট করে আটকের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ সময় জনতা আজিজুলের বাড়ি ঘরে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ইউপি মেম্বার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ এসে আজিজুল, তার ছেলে আসাদুল এবং স্ত্রী ছালেহাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, আজিজুল ও তার স্ত্রী ছালেহা এবং ছেলে আসাদুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখান থেকে এক্সরে করার কথা বলে কৌশলে আসাদুল পালিয়ে যায়। তাছাড়া স্ত্রী ছালেহা বেগমও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যায়।
কিন্তু আজিজুল হককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে আজিজুলের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ অভিযোগ করে বলছেন, আজিজুল মাদক ব্যবসায়ী হলেও কৌশলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদকের মামলাও রয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মেহেদি মাকসুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজিজুল একজন মাদক ব্যবসায়ী হলেও পুলিশ তাকে উদ্ধারের সময় তার সাথে কোন মাদক ছিল না। তবে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। বিভাগীয় তদন্ত চলছে, তাই এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
কেন্দুয়া উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রিফাত আরা আনসারি জানান, আসাদুল এক্সরে করার কথা বলে শুক্রবার রাত ৯ টায় বাহিরে গিয়ে এখন পর্যন্ত ফিরে আসেনি। ছালেহা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন এবং আজিজুল হককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। কেন্দুয়া থানা ওসির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে আসেন নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি হাফিজুল ইসলাম।
তিনি শনিবার দুপুরে চেংজানা গ্রামে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা কার্যালয় প্রাঙ্গনে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের কয়েকটি ধাপ আছে। স্থানীয় জনতার কথা শুনেছি। হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তদন্ত শেষে বলা যাবে ঘটনাটি কী? তবে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় জনতা অভিযোগ করেছেন আজিজুল একজন মাদক ব্যবসায়ী