প্রতিদিনই অভিযান, প্রতিদিনই গ্রেপ্তার, তবুও সাভারে মাদকের উৎস কোথায়?
প্রতিদিনই অভিযান, প্রতিদিনই গ্রেপ্তার, তবুও সাভারে মাদকের উৎস কোথায়?
সাভারে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। সর্বশেষ পৃথক দুটি অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ২ জুলাই রাত ৮টা ২০ মিনিটে সাভার মডেল থানার উত্তর কলমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়ামত (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
একই ধারাবাহিকতায় ৩ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিটে সাভারের জয়নাবাড়ি এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে মেহেদী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি জয়নাবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ামতের বিরুদ্ধে পূর্বে ৩টি মাদক মামলা এবং মেহেদীর বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষণ
সাভারে প্রায় প্রতিদিনই মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের খবর আসছে। এটি একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার প্রমাণ হলেও, অন্যদিকে একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতাও সামনে আনে, মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়।
শুধু খুচরা ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র, অর্থায়নকারী এবং স্থানীয় সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। একই ব্যক্তি বা একই ধরনের অপরাধে বারবার মামলা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে, সেটিও গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে মাদকের বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি তরুণ সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ এবং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
এসিএসইউর আহ্বান:
অভিযান যেন শুধু নিয়মিত গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধ না থাকে। মাদকের মূল নেটওয়ার্ক ধ্বংস, পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
সূত্র:
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) প্রেস বিজ্ঞপ্তি — ৩ জুলাই ২০২৬।
