রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ও সিনিয়র জেল সুপারের বিরুদ্ধে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে কারা প্রশাসন
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ও সিনিয়র জেল সুপারের বিরুদ্ধে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে কারা প্রশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ও সিনিয়র জেল সুপারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে কারা প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি আরপি গেটে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে কারাগারে কর্মরত এক প্রধান কারারক্ষীকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকার দেশের কারাগারগুলোকে আধুনিক ও মানবিক সংশোধনাগারে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গণমাধ্যম-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা এবং প্রশাসনিক অনিয়মের কারণে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এক অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, কারা ক্যান্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক কেজি গরুর মাংস ১,৮৫০ টাকা এবং এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস ১,০০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যও অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, বন্দিদের জন্য সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ডাল, তেল, লবণ, মরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর একটি অংশ কারা ক্যান্টিনে বিক্রি করা হয়। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে জেলার ও সিনিয়র জেল সুপারের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ও সিনিয়র জেল সুপারের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
