সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নকে উন্নত ও মডেল ইউনিয়নে গড়ার প্রত্যাশা সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের
নিজস্ব প্রতিবেদক :- সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নকে উন্নত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম। স্থানীয়ভাবে ইউনিয়নের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে তার নামও আলোচনায় এসেছে।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সরকারি ওয়েবসাইটে ইউনিয়ন পরিষদের পূর্বতন চেয়ারম্যানদের তথ্যের ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে আব্দুর রহিমকে এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে তিনি নিজেও ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন।
আব্দুর রহিমের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সুবিধা, কৃষি ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। তার মতে, ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল না পেলে সামগ্রিক উন্নয়ন অর্থবহ হবে না।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব
ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার, প্রয়োজনীয় সড়ক পাকাকরণ এবং মানুষের চলাচল সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আব্দুর রহিম। প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমবে বলেও মনে করেন তিনি।
শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রত্যাশা
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও শিক্ষিত করে গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।
কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়
কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ মেহনতি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পাশে অতীতেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকার প্রত্যাশা করি।”
কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন আব্দুর রহিম।
তিনি বলেন, “বিগত সাড়ে নয় বছর আমি ইউনিয়ন পরিষদের স্থান নির্ধারণ ও ভবন নির্মাণের কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেছি।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাদের সমস্যা বোঝা এবং সরকারি সেবা সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নের প্রত্যাশা
সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, দল-মত ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে ইউনিয়ন পরিষদের জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে আয়োজিত মানববন্ধনেও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বক্তব্য দিয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই ঘটনায় জমির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন পক্ষের ভিন্ন বক্তব্যও প্রকাশিত হয়।
ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জনগণের মতামত এবং প্রযোজ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
Array