• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • সৎ মায়ের মুক্তির দাবিতে ৮ বছরের জেরিনের আকুতি, গলায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে 

     adminj 
    28th Jun 2026 3:06 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    স্টাফ রিপোর্টার:অনিক সিকদার :-  মাত্র আট বছর বয়স। এই বয়সে শিশুদের হাতে থাকার কথা বই-খাতা কিংবা খেলনা। অথচ সেই বয়সেই গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মায়ের মুক্তির আবেদন জানাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ছুটে এসেছে শিশু জেরিন।

    রবিবার (২৮ জুন) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে নীরবে বসে আছে জেরিন। প্ল্যাকার্ডে লেখা— আমার মা ও ৮ মাসের ভাইয়ের জেল থেকে মুক্তি চাই।
    জানা যায়, শিশু জেরিনকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ মে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ তার সৎ মা আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। সে সময় আকলিমার ৭ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য ছেলেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে যায়। এরপর থেকেই তিন বোনকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।
    কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেরিন বলে, মা জেলে যাওয়ার পর থেকে আমার খুব কষ্ট হয়। ছোট ভাইটাও জেলে আছে। ও তো কিছুই বোঝে না। মা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি চাই মা আর আমার ছোট ভাই বাসায় ফিরে আসুক। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই।
    জেরিনের বাবা মুন্না মোল্লা বলেন, যা হওয়ার হয়েছে। সংসারটা একেবারে ভেঙে গেছে। সাত মাসের ছেলে সন্তানটি জেলে বড় হচ্ছে, আর বাসায় তিনটি মেয়ে মাকে ছাড়া কষ্টে আছে। আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত যদি জামিন দেন, তাহলে পরিবারটি আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পাবে। আমি সামান্য ভ্যানচালক এমনিতেই তেমন আয় নেই। সবমিলিয়ে পুরো পরিবার এখন অন্ধকারে।
    প্রতিবেশী শাহানাজ বেগম বলেন, জেরিনকে প্রতিদিন মায়ের জন্য কাঁদতে দেখি। শিশুটির এই আকুতি আমাদেরও কষ্ট দেয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে শিশুদের বিষয়টি মানবিকভাবে দেখা প্রয়োজন।
    কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, একটি শিশুর হৃদয়ে ক্ষমা, মমতা ও ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে, জেরিনের আবেদন সেটিই প্রমাণ করে। মামলাটি বিচারাধীন, তাই আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে ৭ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু ও তিনটি কন্যাশিশুর ভবিষ্যতের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আদালতের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
    তবে রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা সদরে সরকারি কাজে থাকায় জেরিন তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি।
    একদিকে বিচারাধীন একটি মামলা, অন্যদিকে একটি শিশুর ক্ষমা আর মায়ের কাছে ফিরে পাওয়ার আকুতি— দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে জেরিনের গলায় ঝোলানো ছোট্ট প্ল্যাকার্ডটি যেন নীরবে একটি বড় প্রশ্ন রেখে যায়: শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে?

    Array
    We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ