টাঙ্গাইলে কিশোর অটোভ্যান চালক সবুজ হত্যা: মূলহোতাসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার মরদেহের অবশিষ্টাংশ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : – টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিখোঁজ অটোভ্যান চালক কিশোর সবুজ (১৪) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে এসআরবি-১৪। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি শাহীন (৩০) ও অপর পলাতক আসামি হাবিবকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সখিপুরের বহেরাতৈল এলাকার একটি গভীর জঙ্গল থেকে নিহত সবুজের পরিহিত শার্ট, স্যান্ডেল এবং মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এসআরবি-১৪-এর দেওয়া প্রেস রিলিজে এসব তথ্য জানানো হয়।
নিখোঁজের পর অপহরণ মামলা
প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার মিলপুর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হাবিব ও শাহীন নামে আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সবুজের বাবা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলাটি ১৫ অক্টোবর দায়ের করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার দুই আসামি
এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের সদস্যরা নিখোঁজের ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার পলাতক আসামি হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে হাবিবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি শাহীনকে গ্রেপ্তার এবং সবুজের মরদেহের সন্ধানে সখিপুরের বহেরাতৈল আন্দিগ্রামের গভীর জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জঙ্গল থেকে মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার
প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার শাহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে সখিপুর থানার বহেরাতৈল আন্দিগ্রামের গভীর জঙ্গলে পুনরায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে সবুজের পরিহিত শার্ট, পায়ের স্যান্ডেল এবং বন্য প্রাণীর খেয়ে ফেলা মরদেহের অবশিষ্টাংশ হিসেবে মাথার খুলি, চুল ও হাড় উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান
এসআরবি-১৪ জানায়, কিশোর সবুজ নিখোঁজের ঘটনায় ছায়াতদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রধান আসামিসহ দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার হাবিবকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শাহীনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।
Array