বিসিআইসির ৫৮২ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারি: সাবেক এমপি পোটনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক :- রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর আমদানিকৃত প্রায় ৭২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আলোচিত এই ঘটনায় রাষ্ট্রের প্রায় ৫৮২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের কৃষিখাতের চাহিদা পূরণের জন্য বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার আমদানি করে বিসিআইসি। এসব সার বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন গুদামে পরিবহনের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেসার্স পোটন ট্রেডার্সকে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সার গুদামে পৌঁছানো হয়নি। পরবর্তীতে তদন্তে বিপুল পরিমাণ সারের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও পোটন ট্রেডার্সের মালিক কামরুল আশরাফ খান (পোটন), মো. শাহাদাত হোসেন নিপু, নাজমুল আলম বাদল, মো. সোহরাব হোসেন এবং মো. আতাউর রহমানকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে সার সরবরাহ না করে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানিকৃত সার বন্দর থেকে খালাসের পর নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে আত্মসাতের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিসিআইসির তদারকি ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার গুদামে না পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সময় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি আদালতের নজরে এলে হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত রাষ্ট্রীয় সম্পদের এমন বড় ধরনের ক্ষতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুদক জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সার আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের কৃষি খাতের জন্য আমদানিকৃত সার আত্মসাতের এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হলে রাষ্ট্রের ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এবং জড়িতদের দায়-দায়িত্ব স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
