প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘ছোট বেনজীর’ প্রসঙ্গ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে অতীতের বিতর্কিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আসিফ মিজান। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই অপরাধী সিন্ডিকেট বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের অবসান ঘটে না; বরং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যরা ভিন্ন উপায়ে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।
এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অবস্থান জাতীয় নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাঁর ভাষ্যমতে, অপরাধবিজ্ঞানের “ইনসাইডার থ্রেট” ও “ক্রিমিনাল ইনফিলট্রেশন” তত্ত্ব অনুযায়ী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী চক্র তথ্য পাচার, নীতিগত অন্তর্ঘাত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে সক্ষম।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হচ্ছেন, যা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
ড. মিজান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতীত ভূমিকা, পেশাগত সততা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রকৃত সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পুরো কাঠামোর সংস্কার জরুরি। অন্যথায় অতীতের প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো নতুন রূপে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
বিশ্লেষকের মতে, রাষ্ট্রের সংবেদনশীল দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কঠোর নিরাপত্তা যাচাই নিশ্চিত করা হলে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।
