গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকার জাজর ও নাওজোড় মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল কেনাবেচা ও মজুতের অভিযোগ উঠেছে
গাজীপুর প্রতিনিধি, মোঃ মোকলেছার রহমান :- গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকার জাজর ও নাওজোড় মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল কেনাবেচা ও মজুতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন যানবাহন থেকে কম দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করে কয়েকটি দোকানে মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাওজোড় ওভারব্রিজের নিচের পশ্চিম পাশে মহাসড়কসংলগ্ন কয়েকটি দোকানে প্রকাশ্যে জ্বালানি তেল কেনাবেচা করা হচ্ছে। এসব দোকানের সঙ্গে নুরুল ইসলাম, রাকিব, জিয়া, আমির ও মোরসালিন নামের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, জাজর বাইপাস সড়ক এলাকায় মোরসালিনের একটি দোকান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যানবাহন দোকানের সামনে এনে পাইপের মাধ্যমে তেল বের করে মজুত করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি তেমন চোখে পড়ছে না। স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রশাসনকে অর্থ দেওয়ার এ অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদকের কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানের সময় কয়েকটি দোকানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দোকান ছেড়ে চলে যান। উপস্থিত অন্য ব্যক্তিরাও অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কয়েকটি দোকানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে শিশুশ্রমসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধানের আওতায় বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মহাসড়কের পাশে অনুমোদনহীনভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও বিক্রি করা হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চোরাই বা অবৈধ উৎস থেকে জ্বালানি তেল কেনাবেচার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় জ্বালানি তেল কেনাবেচার বৈধতা, তেলের উৎস এবং মজুতের অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Array