পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি :- ২০মে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই নিউজ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই নিউজ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক নিয়ামত আলী। এসময় সহ-সম্পাদক মো: মুক্তা মিয়া মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ জনগণ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেও কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি আরিফুল, এডিশনাল ডিআইজি (ক্রইম) আশরাফুল আলম, প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, মনজুর বারী মন্জু, মনোয়ার হোসেন সিদ্দিকি, আবদুল আলিম গিয়াস সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি। এসময় মাদকসেবীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা ও সংশোধনাগার সেন্টার স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে মাদকের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও পুলিশ হত্যার ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাই অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় অপ-সাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা নিয়েও আলোচনা হয়। আইজিপি বলেন, সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-কে মাদক নির্মূলে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে প্রতিটি থানায় নিয়মিত মতবিনিময় সভা আয়োজনেরও আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় বক্তারা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় উপস্থিত অনেকেই আইজিপির সাংবাদিকবান্ধব মনোভাব, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও ইতিবাচক বক্তব্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে নিরাপদ রাখতে সচেতন নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কার্যকর পথ।
