রাজৈরে ইউপি চেয়ারম্যানকে দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ।
।বিশেষ প্রতিনিধি:, নাজমুল কবিরসহ ৪ জনেরবিরুদ্ধে থানায় জিডি
রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি ॥ মাদারীপুরের রাজৈর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চায়না বেগমকে প্ররোচিত করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ ও অপপ্রচারের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। গত ৩ মে রাজৈর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুল হক সনেট রাজৈর থানায় এই জিডিটি করেন (জিডি নং- ১৫৩)। জিডিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, নাজমুল কবীর, খোন্দকার আব্দুল মতিন, কাজী নজরুল ইসলাম এবং রাজৈর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চায়না বেগম।
জিডি সূত্রে জানা যায়, বিবাদী নাজমুল কবীরসহ অন্য সহযোগিরা রাজৈর প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাজৈর ক্লাবের নামে একটি ভূয়া ফেইসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এই চক্রটি রাজৈর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চায়না বেগমকে ইন্ধন জোগিয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটি সাজানো ও মিথ্যা চাঁদাবাজির দরখাস্ত দাখিল করিয়াছেন। সাংবাদিকদের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা দিতে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজৈর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চায়না বেগমের বিরুদ্ধে ইউপি ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, উন্নয়ন প্রকল্প, টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ সব কার্যক্রম তিনি নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করছেন। এছাড়া মাসিক সমন্বয় সভা না করে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর নেন। তার বিরুদ্ধে ট্যাক্সের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন, মসজিদ সংস্কারের নামে অর্থ আত্মসাৎ, সেইসঙ্গে প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে তিনি পরিষদে অনিয়মিত থাকায় পরিষদের কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশ সনদ ও জরুরি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। তাদের কাছ থেকে ২/৩ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় তিনি সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, টাকার বিনিময়ে ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র প্রদান এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কক্ষ ভাড়া দিয়ে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ২০ এপ্রিল রাজৈর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুল হক সনেটের নেতৃত্বে কয়েকজন সাংবাদিক তাঁর কার্যালয়ে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অপেশাদার আচরণ করেন। মূলত এসব দুর্নীতির তথ্য আড়াল করতেই তিনি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন।
রাজৈর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুল হক সনেট জানান, “আমাদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করতে এবং দুর্নীতি ঢাকতে একটি অশুভ চক্র ভূয়া ফেইসবুক আইডি ও মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা থানায় জিডি করেছি।”
