২৫ বছর একই কর্মস্থলে থেকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ: চরফ্যাশনের কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকদের বিস্ফোরক অভিযোগ
ভোলা প্রতিনিধি: – ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জনাব ছানাউল্যাহ আজমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং কৃষকদের সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সাধারণ কৃষকদের পক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রায় ২৫ বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত থেকে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন এবং সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। কৃষকদের দাবি, সরকারি প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ, কৃষিযন্ত্র বিতরণ, সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সেচ পাম্প ও পাওয়ার টিলার বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষক ট্রেনিং সেন্টার সংস্কারের নামে বরাদ্দ এনে যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই নামমাত্র কাজ করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিতে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণের সময় জনপ্রতি ১০ টাকা করে আদায় করে গত ১৫ বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহের অভিযোগও উঠে এসেছে। একইসঙ্গে এসএসিপি প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো লীড ফার্মার নিয়োগে অনিয়ম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের নাম ব্যবহার করে ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাঠে কাজ না করলেও তাদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ অন্যরা ভোগ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, লীড ফার্মারদের ৬ মাসের ভাতা একত্রে বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে পরবর্তীতে অফিসের অডিট ও অন্যান্য খরচের অজুহাতে জনপ্রতি কয়েক হাজার টাকা ফেরত নেওয়া হতো। এভাবে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ আরও রয়েছে যে, বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর ভাতাভোগীদের দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও বক্তব্য রেকর্ড করানো হয়।
এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় কমন ফ্যাসিলিটেটর সেন্টার (সিএফসি) নির্মাণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, বরাদ্দের তুলনায় কম টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের নামে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে কৃষিযন্ত্র বিতরণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া উপজেলার শত শত কীটনাশক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের নামে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করে ঘুষের বিনিময়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার নামে ও তার নিকটাত্মীয়দের নামে চরফ্যাশনের বিভিন্ন এলাকাসহ ঢাকায় ফ্ল্যাট, দোকানঘর এবং বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ বিষয়ে সাধারণ কৃষকদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
