মোহসেনুদ্দীন নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক: অনিয়ম, ঘুষ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
পটুয়াখালী প্রতিনিধি :- পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মোহসেনুদ্দীন নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সভাপতি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে নতুন সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা এবং প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রশীদকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে পরবর্তীতে অধ্যক্ষ এম এ রহিম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করে ভিন্ন উপজেলার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অধ্যক্ষ এম এ রহিম বর্তমান ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কয়েকটি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় অনেকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও প্রতারণার অভিযোগে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগকারীরা মামলার নম্বর হিসেবে সি আর ১৯১৮/২৪ উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া অধ্যক্ষ, রেজিস্টার এবং প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
অভিযোগকারীরা জানান, বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মাদ্রাসার সহ-সভাপতি, ডিজির প্রতিনিধি এবং অভিভাবক সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া যেতে পারে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্টদের কাছে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ এম এ রহিম, নবনিযুক্ত সভাপতি, রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তারা মনে করেন, একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
